মোঃ আবু সাইদ, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর মহানগরীকে সর্বাত্মক মাদক মুক্ত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে তুরাগ নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় এক বিশালাকার যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অদ্য ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তুরাগ তীরবর্তী পিংকি গার্মেন্টসের পিছনের অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদক বিক্রেতা ও মাদকাসক্তসহ মোট ২৯ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার মহোদয়ের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ মেগা অভিযানে মূল নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।অভিযানের প্রতিটি ধাপ নিজে সরেজমিনে তদারকি করে চরম পেশাদারিত্ব ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন। তুরাগ তীরের ভৌগোলিক জটিলতা ও অপরাধীদের সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে তিনি চৌকস রণকৌশল সাজান। তার বলিষ্ঠ ও দুঃসাহসিক দূরদর্শী নেতৃত্বে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দলটি অপরাধীদের ঘিরে ফেলে এবং কোনোরূপ অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ না দিয়েই ২৯ জন অপরাধীকে জালে তুলতে সক্ষম হয়। জিএমপির অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তার এই দৃঢ় ও আপসহীন ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আস্থা সৃষ্টি করেছে।
বৃহৎ এ যৌথ অভিযানে জিএমপি, ডিএমপি এবং নৌ-পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন। জিএমপির পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম দক্ষিণ) জনাব শফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তরা জোন) এবং নৌ-পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঢাকা রিজিওন) সশরীরে মাঠে থেকে অভিযানে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করেন। তিন বাহিনীর এমন সুসংগঠিত যৌথ উপস্থিতি অপরাধীদের পালানোর সব পথ রুদ্ধ করে দেয়।
অভিযান শেষে জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, গাজীপুর মহানগরীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীকে ছাড় দেয়া হবে না।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সর্বগ্রাসী মাদক নির্মূল এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে নিয়মিতভাবে এ ধরনের বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে আসছে। যৌথ বাহিনীর এই সফল ও সাহসিক অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।