স্টাফ রিপোর্টার, কয়রা
প্রতিদিন ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাচ্ছে, সময় এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কয়রা উপজেলার উন্নয়ন যেন থমকে আছে একই জায়গায়। উন্নয়ন শব্দটি কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তব চিত্র একেবারে ই ভিন্ন। কয়রার টেকসই উন্নয়নের লক্ষণ খুবই দুর্বল এবং দিন দিন তা আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়রাবাসী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়রা একটি ভৌগোলিকভাবে অতি ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় উপজেলা। বারবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই জনপদ। কিন্তু এত সংকটের মধ্যেও এখনো পর্যন্ত কয়রায় টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ বা জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অদক্ষ পরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে উন্নয়নের বড় ধরনের প্রকল্পগুলোও আলোর মুখ দেখছে না।
জনগণের হতাশা ও ক্ষোভের জায়গাটি এখানেই যারা ক্ষমতায় যান, তারা বেশিরভাগ সময় নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কয়রার প্রকৃত সমস্যা, মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যত কারও কোনো আগ্রহ নেই। আর যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা এখানে কর্মরত হন, তাদের অনেকেই স্বল্প সময় অবস্থান করে, নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এর ফলে কয়রার উন্নয়ন বারবার থমকে যায়, প্রতিশ্রুতি থাকে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
বর্তমানে কয়রায় যে অবস্থা বিরাজ করছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে, যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
খাবার পানির সংকট দীর্ঘদিনের। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। অনেক পরিবার কষ্ট করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছে। স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, শিক্ষা ও কৃষিখাতেও রয়েছে চরম অব্যবস্থা ও অবহেলা।
সাংবাদিক আসাদুল হক বলেন,
আমি একজন কয়রার সাধারণ সংবাদ কর্মী হিসেবে মনে করছি, কয়রার উন্নয়ন নিয়ে যারা দায়িত্বশীল, তাদের উচিত এখনই বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া। রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রশাসনিক আন্তরিকতা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিকল্পনার সমন্বয়ে কয়রার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই উন্নয়ন রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে আগামী প্রজন্মকে উপকূল নয়, এক পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপ উপহার দিতে হবে,যার দায় কেউ এড়াতে পারবে না।