নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী জিনিয়া ইসলাম। খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় একটি মূল্যবান পুরোনো ক্যাসেট উপহার দিয়ে তিনি কুড়িয়েছেন প্রশংসা ও ভালোবাসা।জিনিয়া ইসলাম বর্তমানে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি এখনো হৃদয়ে লালন করছেন ছবি আঁকার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং নিয়মিতভাবে খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী হিসেবে শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।সম্প্রতি তিনি খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের হাতে আশির দশকের একটি বিরল ক্যাসেট তুলে দেন, যা একসময় সংগীতপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। ক্যাসেটটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এর এক পাশে আগে থেকেই গান সংরক্ষিত থাকত, আর অন্য পাশটি ছিল ব্ল্যাঙ্ক, যেখানে নিজের পছন্দের গান বা কণ্ঠ রেকর্ড করার সুযোগ ছিল। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আজ এই ক্যাসেটের ব্যবহার ও বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় হারিয়ে গেলেও ইতিহাস ও স্মৃতির অংশ হিসেবে এর গুরুত্ব আজও অপরিসীম। জিনিয়ার উপহার ঐতিহ্য সংরক্ষণশালার সংগ্রহকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।উপহার গ্রহণের সময় চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস জিনিয়া ইসলামের পিতা-মাতার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের একমাত্র কন্যাকে পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।তিনি আরও বলেন,“আমি জিনিয়ার জন্য আন্তরিক আশীর্বাদ করি। আমার বিশ্বাস, একদিন সে তার পিতা-মাতার মুখে হাসি ফুটাবে। কারণ যারা শিল্পচর্চা করে, তারা হয়তো সবাই উচ্চশিক্ষিত না-ও হতে পারে, কিন্তু তারা অবশ্যই একজন ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সুন্দর কিছু উপহার দিতে পারে।”জিনিয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে মিলন বিশ্বাস আরও বলেন,“নতুন প্রজন্ম যখন আমাদের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণে এগিয়ে আসে, তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়। জিনিয়ার এই উপহার অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস ২০২২ সাল থেকে নিজের শৈশবের স্মৃতি ও বাংলার ঐতিহ্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণশালা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে সংগ্রহ করতে করতে বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০০ ধরনের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকের ব্যবহৃত বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র, গ্রামীণ জীবনের নানান উপকরণ, পুরোনো প্রযুক্তিপণ্যসহ বহু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন।২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা আর্ট একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকা, সংগীত, আবৃত্তি, হাতের লেখা এবং চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সহায়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, জিনিয়া ইসলামের মতো সচেতন ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে। ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগ খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।