সরওয়ার কামাল, স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবান পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল আজমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৪ঠা সেপ্টেম্বর সকাল১০টায়
অভিযানকালে বান্দরবান সদর থানাধীন বান্দরবান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর সাকিনস্থ তাজিংডং হোটেলের সামনে পাকা রাস্তায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার কেরানীহাট থেকে বান্দরবানের দিকে আসা একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।
এ সময় গাড়ির চালকের আসনে থাকা মোঃ জাকির হোসেন (৩৩), পিতা—মোখলেচুর রহমান, মাতা—রফিয়া খাতুন, সাং—কাশেম মাস্টারের বাড়ি, রামপুর, থানা—বুড়িচং, জেলা-কুমিল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে তার গাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট থাকার কথা স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো ও শনাক্ত মতে প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে গাড়ির পিছনের সিটের ভিতরে বিশেষ কৌশলে খাকি কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ১৫টি পোটলা উদ্ধার করা হয়। পোটলাগুলোর প্রতিটিতে ১০টি করে মোট ১৫০টি নীল রঙের বায়ুরোধক পলিজিপার প্যাকেট এবং প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে সর্বমোট ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) পিস (ভাঙ্গা সহ) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০,০০,০০০/- (নব্বই লক্ষ) টাকা।
জব্দকৃত আলামত:-
১. ৩০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট
২. ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার, রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৮৪৩৯
৩. গ্রেফতারকৃত আসামির ব্যবহৃত ০১টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে কক্সবাজার জেলা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট হতে ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলার অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে আরও ০৩ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর সঙ্গে প্রাইভেটকারযোগে ইয়াবা পরিবহন করছিল।
পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কেরানীহাট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা কৌশলে কেরানীহাট হয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করে। বান্দরবান বাসস্টেশন এলাকায় ওই তিনজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায় বলে গ্রেফতারকৃত আসামি জানান।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে পলাতক অজ্ঞাতনামা সহযোগী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।