• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জোহরা খাতুন শিশু বিদ্যানিকেতনের প্লে শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সম্পূর্ণ ফ্রি প্রশিক্ষণ–২০২৬ হ্যান্ডরাইটিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি রোধে পূর্বধলায় পুলিশের সচেতনতামূলক সমাবেশ ধামইরহাটে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুভ উদ্বোধন A Wing Without a Sky ড. আব্দুল মঈন খান মন্ত্রী হওয়ায় শিলমান্দীতে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান বিশ্বনাথে সোনাপুর চ্যারিটি গ্রুপ কর্তৃক দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান হোসেনপুরে বরের গাড়ি থেকে কনে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পূর্বধলায় নারী ও প্রতিবন্ধীদের আত্মকর্মসংস্থানে কাজ করছে ‘হারাধন প্রতিবন্ধী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ ডোমারে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রকৌশলী শাহরীন ইসলাম তুহিনের মতবিনিময় সভা

পূর্বধলায় নারী ও প্রতিবন্ধীদের আত্মকর্মসংস্থানে কাজ করছে ‘হারাধন প্রতিবন্ধী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’

Reporter Name / ১২ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় নারী ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ‘হারাধন প্রতিবন্ধী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সমিতি বেকার নারী, যুব মহিলা ও প্রতিবন্ধী নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সমিতিটি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, নেত্রকোণা থেকে ‘স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ৪৬ নং অধ্যাদেশ)’-এর অধীনে নিবন্ধিত। সংযুক্ত নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, সমিতিটির নিবন্ধন নম্বর জেমবিকা/নেত্র/রেজি/২২/১৫৯ এবং নিবন্ধনের তারিখ ৭ জুন ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার অসহায়, পিছিয়ে পড়া, বেকার ও প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আসছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে নকশিকাঁথা সেলাই, ব্লক-বাটিক, পাপোশ তৈরি, বাঁশ-বেতের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি, পোশাক কাটিং ও সেলাইসহ নানা ধরনের কুটির ও হস্তশিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ।
বিশেষ করে সেলাই ও দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের ঘরে বসে কিংবা ক্ষুদ্র পরিসরে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আত্মকর্মসংস্থান ও নারী উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি। শীত মৌসুমে পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করে আসছে হারাধন প্রতিবন্ধী মহিলা উন্নয়ন সমিতি। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি।
সমিতির সভাপতি সোমা রানী সূত্রধর ও সাধারণ সম্পাদক ঊষা রানী সূত্রধর জানান, সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বেকার নারীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমিতিটি ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আরও ব্যাপক ও নিয়মিত সহযোগিতা পাওয়া গেলে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত নারী ও প্রতিবন্ধীদের কাছে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। এতে অধিকসংখ্যক নারী প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের পরিবার ও সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারবেন।
তাদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সমিতিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ উপকরণ, দক্ষ প্রশিক্ষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এ উদ্যোগ আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে, অন্যদিকে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
পূর্বধলার প্রত্যন্ত এলাকার নারী ও প্রতিবন্ধীদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করতে সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সমিতির দায়িত্বশীলরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd